১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনের ঢামাঢোলের মধ্যে ট্রেসি তারেক রহমানের মধ্যে হতে পারে বৈঠক

বিশেষ প্রতিনিধি
আপলোড সময় : ০২-১০-২০২৫
নির্বাচনের ঢামাঢোলের মধ্যে ট্রেসি তারেক রহমানের মধ্যে হতে পারে বৈঠক
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে চারদিকে চলছে নানা সমীকরন। কোথাও জোট গঠনের চেষ্টা, কেউ আবার তাদের প্রার্থী চুড়ান্তকরনের চেষ্টাও করে যাচ্ছেন। এর বাইরেও নির্বাচন হওয়া না হওয়া নিয়েও গুঞ্জন বিরাজমান। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বারবার নিশ্চিত করা হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারীর প্রথম ভাগেই অনুষ্টিত হবে। এমন প্রেক্ষাপটে খুব একটা বেশী সময়ও বাকী নেই। রাজনৈতিক দল সমুহ তাদের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে ব্যস্ত। তবে এরই মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনেই রয়েছেন। কবে দেশে ফিরবেন তার নির্দিষ্ট কোনো সময় বলছে না কেউ। এতে নির্বাচন সঠিক সময়ে হওয়া নিয়ে উৎকন্ঠার অন্যতম একটা কারণও ধরা হচ্ছে। তবে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে তফসিল ঘোষনার সাথে সাথে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান। 

তারেকের লন্ডন অবস্থানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা দৃষ্টি লন্ডন পানেই থাকে! সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে যুক্তরাজ্যে সফরে যাওয়া ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স-সিডিএ) ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের। 

জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের নানামুখী টানাপোড়েনের মধ্যে তার লন্ডন সফর অনেকেই বিভিন্নভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন। 

বুধবার (০১ অক্টোবর) সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ছেড়েছেন। বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রেসির সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার পার্টনার ডেভিড বাফ। তার পরও এই সফরকে নিছক ব্যক্তিগত সফর বলে মানতে নারাজ অনেকে। বরং তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ট্রেসির দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাজ্যের লন্ডন সফর নিয়ে নানামুখী গুঞ্জন ভাসছে ঢাকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষনে উঠে এসেছে, ট্রেসির যুক্তরাজ্য সফরের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এই সফরে তার সঙ্গে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক হতে পারে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে লন্ডন সফরে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথম দফায় বৈঠক করেন ট্রেসি। ওই সূত্র ধরে অনুমান করা হচ্ছে এ সফরেও তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।
বিগত সময়ের ওই বৈঠকে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন এবং সরকার গঠন নিয়ে বিএনপির ভাবনা ও পরিকল্পনা নিয়ে দুজনের মধ্যে আলোচনা হয় বলে সে সময় গণমাধ্যমকে জানান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর। এ ছাড়া নির্বাচনে জয়ী হলে বিএনপি কেমন দেশ গড়তে চায় এবং নির্বাচন কমিশন ঘোষিত রূপরেখা নিয়ে তাদের মতামত কী এমন মৌলিক নানা বিষয়ও উঠে আসে তারেক ও ট্রেসির ওই আলোচনায়। 

এর আগে নির্বাচন ও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মূলত ওই বৈঠকের পরই আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে। যদিও জামায়াত ইসলামী বহু আগ থেকে রমজানের পূর্বে তথা ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবী করে আসছিল।

এমন প্রেক্ষাপটে তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ট্রেসি জ্যাকবসনের পুনরায় লন্ডনযাত্রা নিয়ে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তার এবারের সফর যুক্তরাষ্ট্রের ‘ট্র্যাক টু ডিপ্লোমেসির’ অংশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটা যুক্তিসংযতও বটে! 


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ